ব্রিটেনে ১৫টি ‘রহস্যময়’ মৃত্যু: পেছনে কি ছিল রাশিয়া?

Spread the love

বাংলা সংলাপ ডেস্কঃ ব্রিটেনে সম্প্রতি সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর নার্ভ এজেন্ট নোভিচক হামলা, এবং তার পর সেই একই বিষে আরো দুজন আক্রান্ত হবার পর এক মহিলার মৃত্যু – এর পর গত দুই দশকে ব্রিটেনের মাটিতে অনেকগুলো মৃত্যুর ওপর নতুন করে সবার নজর পড়েছে।

ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে নোভিচকের উৎস হিসেবে রাশিয়াকে দায়ী করা হয় । কিন্তু ক্রেমলিন তা জোর দিয়ে অস্বীকার করছে।

বাজফিডের এক তদন্তের পর বলা হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে গত দু দশকে ব্রিটেনে ঘটা অন্তত ১৫টি মৃত্যুর ঘটনার পেছনে হয়তো রাশিয়ার হাত ছিল।

এই মুত্যুগুলোর কোন কোনটি ব্রিটেনে পালিয়ে আসা ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র বরিস বেরেজোভস্কির সাথে সম্পর্কিত, আর কোনোটি সংশ্লিষ্ট সাবেক রুশ স্পাই আলেক্সান্ডার লিটভিনেনকোর সাথে – যিনি লন্ডনে তেজস্ক্রিয় বিষপ্রয়োগের পর ২০০৬ সালে মারা যান।

কী ভাবে ঘটেছিল ওই মৃত্যুর ঘটনাগুলো – এখানে তারই বিবরণ।

সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়াকে হত্যার চেষ্টার কয়েক মাস পরই সলসবুরি থেকে ১৫ কিমি দূরে এমসবুরিতে নোভিচকের বিষক্রিয়ার শিকার হন ডন স্টার্জেস এবং তার বন্ধু চার্লি রাওলি।

পুলিশ বলছে তারা একটি পারফিউমের বোতল স্পর্শ করার ফলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

তারা দু’জনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, আটদিন পরে ডন মারা যান। স্টার্জেস হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ২০শে জুলাই।

ব্রিটিশ সামরিক গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা ছিল নোভিচক নামের নার্ভ এজেন্ট।

ম্যাথিউ পাঞ্চার: মৃত্যু ৪ঠা মে ২০১৬
তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ পাঞ্চার ছিলেন লিটভিনেনকো মামলার একজন বিশেষজ্ঞ এবং তার দেহে তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রার পরিমাপ করেছিলেন তিনি। ।

তিনি ২০১৫ সালে রাশিয়া যান, মায়াক পারমাণবিক কেন্দ্রে তেজষ্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে।

ফিরে আসার পর তার মধ্যে বিষণ্ণতা দেখা দেয় । তিনি আত্মীয়দের বলেন, তিনি সবকিছুতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, এবং এমন একটি অংকের ভুল করেছেন যার জন্য তার জেল হতে পারে।

এর পর ২০১৬-র মে মাসে অক্সফোর্ডে তার বাড়ির রান্নাঘরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়, যাতে অনেকগুলো ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পুলিশ ও ডাক্তাররা একে আত্মহত্যা বলে মত দিলেও – বাজফিড বলছে, অন্তত ৮ জন আত্মীয় ও বন্ধু বলেছেন – এ কথা তারা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু তার বাড়িতে কেউ ঢুকেছিল বলেও প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

একজন সাবেক স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড কর্মকর্তা বলেন, তার যে বিষণ্নতা দেখা দিয়েছিল তা হয়তো কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে হয়ে থাকতে পারে।

ব্রিটিশ প্রপার্টি ব্যবসায়ী ধনকুবের স্কট ইয়ং-এর ব্যবসা ছিল রাশিয়ায়।

বাজফিড বলছে, তিনি লন্ডন ও মস্কোয় বরিস বেরেজোভস্কির বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে তার পরিচয় গোপন রাখার কাজে ‘কভার’ হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন বিদেশী ট্রাস্টের মাধ্যমে টাকা তুলতে সহায়তা করতেন।

ইয়ং কয়েক বছর ধরেই বন্ধু, আত্মীয় ও পুলিশকে বলতেন, একটি রুশ হত্যাকারী দল তার পেছনে লেগেছে। বাজফিড বলছে, তিনি একটি স্থানীয় অপরাধী গ্রুপের কাছে নিরাপত্তাও চেয়েছিলেন।

তার কিছুদিন পরই, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের ৮ তারিখ তিনি তার বান্ধবী নোয়েল রেনোর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারা যান। তার দেহ রাস্তার ধাতব রেলিংএ গেঁথে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশ বলেছিল, তার মৃত্যু সন্দেহজনক নয়।

কিন্তু তার আত্মীয়রা বাজফিডকে বলেন, তার মৃত্যুর সময় কিছু ঘটনা ইঙ্গিত দেয় এতে কারো হাত থেকে থাকতে পারে। যেমন সে সময় সব সিকিউরিটি ক্যামেরার মুখ অন্যদিকে ফেরানো ছিল।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র বাজফিডকে বলেছে, তারা এমআইসিক্সকে জানিয়েছিল যে মি. ইয়ংএর মৃত্যুর সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।

পল কাসল, রবার্ট কার্টিস এবং জনি এলিচাওফ: মৃত্যু নভেম্বর ২০১০ – নভেম্বর ২০১৪
পল কাসল, রবি কার্টিস এবং জনি এলিচাওফ – এরা তিনজনই ছিলেন বন্ধু এবং স্কট ইয়ং-এর ব্যবসায়িক পার্টনার

কাসল মারা যান ২০১এর নভেম্বরে , কার্টিস ২০১২র ডিসেম্বরে আর এলিচাওফ ২০১৪-র নভেম্বরে। তদন্তকারীদের মতে এরা তিনজনই আত্মহত্যা করেছিলেন।

তাদের ব্যবসায়িক বন্ধুরা বলেছেন, কাসল এবং কার্টিস – রাশিয়ান মাফিয়াদের সাথে সম্পর্কিত অপরাধীচক্রের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ চুক্তি করেছিলেন। এলিচাওফ এক চুক্তিতে তার সব সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আমেরিকান কর্মকর্তারা বাজফিডকে বলেছেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তাদের কাছেএ ব্যাপারে তথ্য চেয়েছেন।

তিনি সুপরিচিত ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে।

তিনি এক সময় বরিস ইয়েলৎসিন এবং ভ্লাদিমির পুতিনের প্রেসিডেন্ট হবার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু পুতিনের সাথে সম্পর্ক খারাপ হলে তিনি ক্রেমলিনের চাপে ২০০০ সালে রাশিয়া ছাড়েন। ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পান ২০০৩ সালে।

তার অনুপস্থিতিতে জালিয়াতি ও অর্থপাচারেরর অভিযোগে রাশিয়ায় তার ১৩ বছরের কারাদন্ড হয়।

পুতিন বলেছিলেন, বেরেজোভস্কি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন, তাকে রাশিয়ায় ফিরতে দেবার আবেদন করেছিলেন।

২০১৩ সালের ২৩শে মার্চ তার সাবেক স্ত্রীর বার্কশায়ারের বাড়িতে বেরেজোভস্কিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার দেহরক্ষীকে বাথরুমে দরজা ভাঙতে হয়েছিল।

কি ভাবে তার মৃত্যু হয় তা এখনও অস্পষ্ট। পুলিশ বলেছিল, এর সাথে তৃতীয় কেউ জড়িত এমন সন্দেহ করা যায় না, কিন্তু করোনারের রিপোর্টে বলা হয় মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

রুশ ব্যবসায়ী আলেক্সান্ডার পেরেপিলিচনি সেদেশের একাধিক দুর্নীতি ও মৃত্যুর ঘটনার ব্যাপারে সাক্ষ্য ও তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও অর্থ পাচারের ঘটনায় সন্দেহভাজন ছিলেন।

তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি রাশিয়া থেকে সুইস ব্যাংক একাউন্টে লক্ষ লক্ষ ইউরো স্থানান্তরের এক মামলার ব্যাপারে সুইস কৌঁসুলিদের সহায়তা করছিলেন।

পেরেপিলিচনির মৃতদেহ পাওয়া যায় ২০১২ সালের নভেম্বরে ব্রিটেনের সারে-তে, তার ভাড়া করা বাড়ির কাছে। জগিং করতে বেরিয়ে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এবং মারা যান তিনি।

প্রথম দিকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করা হলেও ২০১৭ সালে বিশেষজ্ঞরা আরেক তদন্তের সময় বলেন, হয়তো তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তারা মৃতের দেহে জেলেসেমিয়াম এলিজেন্স এক ধরণের গাছ থেকে তৈরি বিরল বিষের আভাস পান – যা চীন ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জন্মায়।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো সে সময় বিবিসিকে বলেছিলেন যে তারা সন্দেহ করেন যে আলেক্সান্ডার পেরেপিলিচনিকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্যারেথ উইলিয়ামস ছিলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউএর একজন বিশেষজ্ঞ। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে গুপ্তচর সংস্থা এমআইসিক্সে যোগ দেবার জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।

বাজফিড বলছে, উচ্চপদস্থ পুলিশ সূত্র তাদের বলেছে যে মি. উইলিয়ামসের কাজের একটা অংশ ছিল রাশিয়া ও মস্কো-ভিত্তিক মাফিয়া গ্রুপ বিষয়ক।

লন্ডনে তার এ্যাপার্টমেন্টে একটি স্পোর্টস ব্যাগে ভরা অবস্থায় তার নগ্ন মৃতদেহ পাওয়া যায়।

তার মৃত্যু নিয়ে দুটি তদন্তে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়। ব্রিটিশ তদন্তকারীরা বলেন, তিনি নিজেই ব্যাগে ঢুকেছিলেন তবে আর বেরুতে পারেন নি।

তবে বাজফিড বলছে, গ্রীষ্মকাল হওয়া সত্বেও ঘরের হিটার চলছিল, সম্ভবত দ্রুত দেহে পচন ধরানো এবং প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়েই এটা করা হয়েছিল। পুলিশ ব্যাগে বা তালায় কোন আঙুলের ছাপ বা উইলিয়ামসের ডিএনএ পায়নি। চাবি পাওয়া যায় তার দেহের নিচে।

জর্জিয়ান ব্যবসায়ী বাদরি পাতারকাৎসিশভিলি ছিলের বরিস বেরেজোভস্কির একজন ব্যবসায়িক অংশীদার এবং সহযোগী।

একজন বন্দীকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে ২০০১ সালে তার নামে মামলা হয়। তিনি জর্জিয়ায় চলে যান, এবং রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ তার নামে আন্তর্জাতিক হুলিয়া জারি করে।

রাশিয়া কয়েক বার চেষ্টা করেও জর্জিয়া থেকে পাতারকাৎসিশভিলিকে বিচারের জন্য হস্তান্তর করাতে পারে নি, বরং সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও করেছিলেন।

সে বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে লন্ডনের উপকণ্ঠে তার বাড়িতে তিনি হৃদরোগে মারা যান।

ইউরি গোলুবেভ ছিলেন তেল কোম্পানি ইউকোসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মিখাইল খদরকোভস্কির অংশীদার।

তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তুলে কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রুশ সরকার। এর পর খদরকোভস্কির কারাদন্ড হয়,আর গোলুবেভ চলে যান ব্রিটেনে।

লন্ডনে ২০০৭ সালে জানুয়ারি মাসে তার এ্যাপার্টমেন্টে গোলুবেভকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বলেছিল, তারা এ নিয়ে কোন সন্দেহ করার কারণ দেখছে না এবং হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো বাজফিডকে বলেছে, এ নিয়ে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা গোপনে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছ আরো তথ্য চেয়েছেন।

লিটভিনেনোর মৃত্যু নিয়ে সবিস্তারে অনেক রিপোর্ট করেছিলেন দি টাইমসের সাংবাদিক ড্যানিয়েল ম্যাকগ্রোরি। এ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরিতেও তিনি সহায়তার করেছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচারের পাঁচদিন আগে তিনি মারা যান।

এ ছবিতে অংশ নিয়েছিলেন আরেকজন, যিনি মার্কিন নিরাপত্তা পরামর্শক পল জয়াল। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখানোর পর তার বাড়ির সামনে তিনি আক্রান্ত হন। দু’জন অজ্ঞাত বন্দুকধারী তার ওপর গুলি চালায় – কিন্তু তিনি বেঁচে যান।

ম্যাকগ্রোরির পরিবার নিশ্চিত যে তিনি স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো বাজফিডকে বলেছে, এ নিয়ে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা আরো তদন্ত করছেন এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের সহায়তা চেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থায় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইগর পনোমারেভ মারা যান লন্ডনে, অপেরা দেখতে দেখতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর।

তিনি বলছিলেন তিনি অস্বাভাবিক পিপাসা বোধ করছেন, কয়েক লিটার পানিও পান করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এগুলো থ্যালিয়ামের বিষক্রিয়ার লক্ষণ।

ইগর পনোমারভের সাথে লন্ডনে আলেক্সান্ডার লিটভিনেনকো এবং মারিও স্কারামেল্লার সাথে এক বৈঠক করার পরিকল্পনা ছিল। তার ঠিক আগেই এ ঘটনা ঘটে। মারিও স্কারামেল্লা রুশ বিশেষ সংস্থার সাথে ইতালির রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত করছিলেন।

পনোমারভের মৃত্যুর সরকারি কারণ হিসেবে হার্ট এ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়। তার মৃতদেহও জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত রাশিয়া নিয়ে যাওয়া হয়।

বাজফিড উচ্চ পর্যায়ের চারটি সূ্রের উল্লেখ করে লিখেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে তথ্য রয়েছে যে পনোমারভকে হত্যা করা হয়েছে।

বেরেজোভিস্ক এবং পাতারকাৎসিশভিলি-কে সাহায্য করেছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিফেন কার্টিস।

তিনি পৃথিবীর কিছু শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্পদের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন।

বাজফিড বলছে, মি. কার্টিস বেরেজোভিস্ক এবং পাতারকাৎসিশভিলি-কে রাশিয়া থেকে ১০০ কোটি ডলার তুলে যুক্তরাজ্যে আনতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি এ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন নিউ ওয়ার্ল্ড ভ্যালু ফান্ড-এ এবং তাতে কমিশন পেয়েছিলেন ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কার্টিস তার নিজস্ব হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান । বাজফিড বলছে, এর আগে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

ফিনানসিয়াল টাইমসের সাবেক রিপোর্টার টমাস কাটান বলেন, তদন্তের সময় জানা যায়, মি. কার্টিস একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে বলেছিলেন যে তিনি যদি নিহত হন তাহলে তা দুর্ঘটনা হবে না। করোনার নিজেও বলেছিলেন, ওই গল্পে এমন উপাদান ছিল যা শুনলে স্পাই থ্রিলারের কথা মনে হয়।

কিন্তু তদন্তে অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায় নি, ফলে কার্টিসের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলেই রায় দেয়া হয়।

বেরেজোভিস্ক এবং পাতারকাৎসিশভিলি-র আইনজীবী হিসেবে আরো কাজ করেছিলেন স্টিফেন মস।

মস মারা যান মাত্র ৪৬ বছর বয়েসে – হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।

প্রকাশ্যে বলা হয়েছিল কার্টিস ও মসের মৃত্যু সন্দেহজনক নয়। মসের স্ত্রী-ও বিশ্বাস করেন তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বাজফিড এখন জানাচ্ছে যে এমআই-ফাইভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছিল ।

তাদের সন্দেহ ছিল যে এই দুই আইনজীবীকেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।


Spread the love

Leave a Reply