শুক্রবার , ৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Home » অর্থনীতি » যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো চলাচলের নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি নিয়ে সঙ্কা

যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো চলাচলের নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি নিয়ে সঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা থেকে আকাশপথে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো বিমান চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, এর সুরাহা চেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কার্গো বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আসায় যুক্তরাজ্যের বাজারে নিশ্চিত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে রপ্তানি কমবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল কারওয়ানবাজারের বিজিএমইএ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের এ আশঙ্কার কথা জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমরা যখন বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছি, নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছি, তখন একটি তৈরি হওয়া বাজার পেছনের দিকে হাঁটবে, তা কখনই কাম্য নয়। যুক্তরাজ্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক, যা ওই অর্থবছরের মোট পোশাক রপ্তানির ১১.৩৯ শতাংশ। ওই সময়ে এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৭৬ শতাংশ।

আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে যুক্তরাজ্য বাজারে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা এ সময়ের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১২.৪২ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬.১০ শতাংশ। এ বাজারে কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়–ক তা আমরা চাই না।

বিজিএমইএর সভাপতি জানান, বিভিন্ন কারণে সমুদ্রপথে জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে আমরা বিমানযোগে পণ্য পাঠিয়ে থাকি। এতদিন শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পাঠাতে পারলেও এখন আমাদের সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড ও দুবাই হয়ে পাঠাতে হবে। এতে একদিকে খরচ বাড়বে, অন্যদিকে সময়ও বেশি লাগবে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে আমাদের প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে যাবে। একই কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার গত বছর ১৯ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টসময়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে আকাশপথে কার্গোযোগে যে কোনো পণ্য প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা এখনো বলবৎ। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আমরা গার্মেন্টস পণ্য অস্ট্রেলিয়ায় বিমানযোগে পাঠাতে পারছি না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

যেহেতু যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তাই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। যুক্তরাজ্য কোন কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জানতে হবে এবং প্রয়োজনে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে সমাধান করতে হবে। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ইতোমধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ শুরুর যে তাগিদ দিয়েছে, সে অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাজ্যের বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক দপ্তর বিশ্বের ২০ দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ৩৮টি বিমানবন্দরের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। তাই বিষয়টিকে মোটেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। এটি বাংলাদেশের জন্য ইমেজের ব্যাপারও। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মিরান আলী প্রমুখ।

আরও দেখুন

নির্বাচনী জরিপে এখনো ১২% এগিয়ে কনজারভেটিভ

বাংলা সংলাপ ডেস্কঃ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার ক্ষেত্রে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে । বর্তমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *