ফাইনালে মাশরাফির কুমিল্লা, গুডবাই ঢাকা

Spread the love

Mash1449919339বাংলা সংলাপ ডেস্ক

ঢাকার কাছে হেরে বিপিএলের তৃতীয় আসর শুরু করেছিল কুমিল্লা। এমনকি আসরের শুরুতে ফেবারিটের তালিকাতেও কিছুটা নিচের দিকেই নাম ছিল বিপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। অথচ তারকাখচিত রংপুরকে উড়িয়ে দিয়ে আজ সবার আগে ফাইনালের টিকিট জিতল সেই কুমিল্লাই।অন্যদিকে বরিশাল বুলসের কাছে হেরে প্রথমবারের মতো ফাইনাল না খেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা।

শনিবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান তুলেছিল কুমিল্লা। রংপুর গুটিয়ে যায় মাত্র ৯১ রানেই। উদ্বোধনী জুটিতে কুমিল্লাকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। ইমরুল অর্ধশতক ছুঁয়েছেন ৩৩ বলে। শেষ পর্যন্ত ৭টি চার ও সাকিবকে মারা দুটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৬৭ রান ইমরুলের। অপর প্রান্তে ৩৭ বল খেলে ২৮ রান করেছেন লিটন। মাঝে থিসারা পেরেরা ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন রংপুরকে। শেষদিকে আবার ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন জাইদি। ইমরুলকে আউট করার পর ওভারের শেষ দুই বলে আন্দ্রে রাসেল ও আহমেদ শেহজাদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটিও তুলে নেন পেরেরা। স্লোয়ারে থার্ডম্যানে সাকলাইনের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন রাসেল (৩)। ভেতরে ঢোকা বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ শেহজাদ (০)। আরও একবার দলের উদ্ধারকর্তা অলরাউন্ডার জাইদি। ১৫ বলে খেলেন অপরাজিত ৪০ রানের এক টর্নোডো ইনিংস। পরে বল হাতেও জাইদি নিলেন ৪ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ উইকেট নিলেন আবু হায়দারও। রংপুরের ইনিংস তাতে ধ্বংসস্তুপ!

রান তাড়ায় রংপুরের শুরুটা খারাপ ছিল না। শুভাগত হোমের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আসে চারটি বাউন্ডারি। সৌম্য সরকার ও লেন্ডল সিমন্স প্রথম ৪ ওভারে তোলেন ৩৩ রান। কিন্তু বল হাতে নিয়েই ইনিসের গতিপথ পাল্টে দেন আবু হায়দার রনি। এবারের বিপিএলের সবচেয়ে বড় চমক এই বাঁহাতি পেসার নিজের প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে ফেরান রংপুরের দুই ওপেনারকে।

সেই জোড়া ধাক্কা সামাল না দিতেই আবারও জোড়া ধাক্কায় টালমাটাল রংপুর। জাইদিকে চার মারার এক বল পরই স্টাম্পড মোহাম্মদ মিঠুন (৫)। অধিনায়ক সাকিব নিজের প্রথম বলেই ডাউন দা উইকেটে গিয়ে ক্যাচ হয়েছেন সীমানায়। বিনা উইকেটে ৩৬ থেকে রংপুর তখন ৪ উইকেটে ৪৫! মাশরাফি-জাইদি-রাসেলরা মিলে এরপর আরও চেপে ধরেন রংপুরকে। চোটক্রান্ত মাশরাফি ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন মোহাম্মদ নবির গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দারুণ এক স্লোয়ারে থিসারা পেরেরাকে (১১) ফেরান আবু হায়দার। আরেক বিপজ্জনক অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামিকে (৬) ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ শিকার ধরেন জাইদি। আরাফাত সানিকে (৭) ইয়র্কারে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টেনে দেন আবু হায়দার। ৭২ রানের বিশাল জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে কুমিল্লা।

12360201_566273250189251_2190692585805125589_nদিনের অপর ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা ডায়নামাইটসের সামনে তেমন বড় লক্ষ্য ছিল না। তবে ১৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারিয়ে, হোঁচট খেতে খেতে এগিয়েছে ঢাকার ইনিংস। দুই ওপেনারের মধ্যে ফরহাদ রেজা (২০) কিছুটা সাফল্য পেলেও আবুল হাসান (১১) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ হাফিজ তো চরম ব্যর্থ। মাত্র এক রান করে কেভন কুপারের বলে আউট হয়েছেন এই পাকিস্তানি। তবে ঢাকা ডায়নামাইটসকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন আল আমিন হোসেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে ফেরানোর কৃতিত্ব এই পেসারেরই। আল আমিনকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়া শ্রীলঙ্কার সফলতম ব্যাটসম্যানের অবদান মাত্র ১০ রান। ঢাকার আইকন খেলোয়াড় নাসির হোসেনও আল আমিনের শিকার। মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬ রান করতে পেরেছেন নাসির।

নিয়মিত উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গে আস্কিং রান রেটও বেড়ে যাচ্ছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। মোহাম্মদ সামির করা ১৭তম ওভারে দুই ছক্কা ও একটি চারে ২০ রান নিয়ে ঢাকাকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন ওয়ালার। তাইজুল ইসলামের পরের ওভারে মোসাদ্দেকের ছক্কাও নাসির-সাঙ্গাকারাদের দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিল। তবে সেই ওভারের শেষ দুই বলে ওয়ালার (১৮) আর মোসাদ্দেককে (২৬) আউট করে বরিশালের সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। তিনটি করে উইকেট নিয়ে মাহমুদউল্লাহর দলের জয়ে বড় অবদান আল আমিন আর কুপারেরও।

এর আগে এক প্রান্তে গেইল ঝড় তুলে ১৯ বলে করেন ৩৬। এদিন বিপিএলে স্বরুপে ফিরে দলের পক্ষে সর্বচ্চো ৪১ রান করেন সাব্বির। তার ৩৯ বলের ইনিংসটি ৩টি করে ছক্কা-চারে গড়া। গেইল-সাব্বিরের বিদায়ের পর দলকে ১৩৫ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর। শেষ ওভারে মুস্তাফিজের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৩৭ রানের ভালো একটি ইনিংস খেলেন তিনি।

আগামীকাল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রংপুরের মোকাবেলা করবেন গেইল-আল আমিনরা। আর বিজয়ী দল সুযোগ পাবে ১৫ ডিসেম্বরের চ্যাম্পিয়ন হবার লড়াইয়ে অংশগ্রহণের। যেখানে অপেক্ষায় আছে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ন মাশরাফির কুমিল্লা।


Spread the love

Leave a Reply