সোলেইমানির দাফনে পদদলিত হয়ে ৩০ জন নিহত

Spread the love

বাংলা সংলাপ ডেস্ক: ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, নিহত সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে আসা মানুষের মধ্যে পদদলিত হয়ে ৩০জন নিহত হয়েছে।

এছাড়া ঐ ঘটনায় কেরমানে আরো ৪০ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

ইতিমধ্যে কাসেম সোলেইমানির দাফনে যোগ দিতে এবং তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার নিজ শহর কেরমানে শোকের প্রতীক কালো কাপড় পড়া কয়েক লক্ষ মানুষ মানুষ জড়ো হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয় সোলেইমানিকে।

দক্ষিণ পূর্বের শহর কেরমানে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোলেইমানিকে দাফন করা হচ্ছে।

এর আগে তেহরানে তার জানাজায় লাখো মানুষ সমবেত হয়েছিল।

ইতিমধ্যে এই হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেবার এবং রোববার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

৬২ বছর বয়সী সোলেইমানি ইরানের এলিট ফোর্স কুদস বাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ানোর জন্য কাজের পেছনের প্রধান মানুষ ছিলেন।

নিজ শহর কেরমানে সোলেইমানিকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়া হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সোলেইমানির ছবি
সমবেতদের অনেকেই সোলেইমানির ছবি এবং ছবি সম্বলিত পোশাক পড়ে আসেন

সবাই ভালো চোখে দেখে না সোলেইমানিকে

কিন্তু ইরানের সব মানুষ একইভাবে সোলেইমানিকে ইতিবাচকভাবে দেখে না।

তিনি কট্টরপন্থী ছিলেন এবং ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পেছনের মূল শক্তি হিসেবে দেখা হয় তাকে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি ব্রাউন জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে যখন দারিদ্র্য বেড়ে যায়, সেসময় মি. সোলেইমানি লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক এবং সিরিয়ায় বিভিন্ন জোট গঠন এবং মিলিশিয়া বাহিনী তৈরির পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তিনি প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দেন, লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী হেজবোল্লাকে সাহায্য করেন এবং ইরাকে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিপক্ষে দেশটির মিলিশিয়া বাহিনীর পরিচালনায় সহায়তা করেন।

যুক্তরাষ্ট্র তাকে সন্ত্রাসী মনে করতো, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন সোলেইমানি মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরাক ও ওই অঞ্চলের অন্য জায়গায় থাকা মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উপর ‘আসন্ন’ হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন।

তেহরানে কিভাবে শোক পালন হচ্ছে?

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়, সোমবার তেহরানে সোলেইমানির জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছে।

বলা হয়েছে, ‘দশ লক্ষের’ বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে, যদিও এ সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মানুষ সোলেইমানির কফিন মাথার উপর নিয়ে বয়ে নিয়ে চলে এবং তাদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনি জানাজা পরিচালনা করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা যায়।

জানাজার পর, সোলেইমানির মরদেহ শিয়া ইসলামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে নিয়ে যাওয়া হয়।

কেরমানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার আগে সেখানে আরেকটি জনসমাগম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে

ইতিমধ্যে জানা যাচ্ছে, এ সপ্তাহের শেষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে যাবার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

ধারণা করা হচ্ছিল জাভাদ জারিভ সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেবেন।

কিন্তু ভিসা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালে হওয়া এক চুক্তি লঙ্ঘন করছে, যেখানে বলা হয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যেকোন বিদেশী কর্মকর্তা যোগ দিতে পারবেন।

এর আগে রোববার ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি তারা আর মেনে চলবে না।

ওই চুক্তি ইরানের পরমাণু সক্ষমতাকে অনেকটাই কমাতে সক্ষম হয়েছিল, বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্ত ছিল।

এই চুক্তির তিন ইউরোপীয় দেশ জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ইরানকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারির জবাবে মি. ট্রাম্প বলেছেন সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে কোন পদক্ষেপ নেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালাবে, আর তা ‘হয়তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না’।

তিনি ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান যদি মার্কিন নাগরিক বা সম্পদে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ‘দ্রুত ও কঠোর’ হামলা চালাবে।


Spread the love

Leave a Reply