মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি ২০২০
Home » ব্রিটেনের সংবাদ » ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করে সাজার মুখে ব্রিটিশ তরুণী

ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করে সাজার মুখে ব্রিটিশ তরুণী

বাংলা সংলাপ ডেস্কঃ একদল ইসরায়েলি পর্যটকের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের এক তরুণীর আনা গণধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণ পেয়েছেন সাইপ্রাসের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষকে হেনস্তা করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফামাগুসতা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ ঘোষণা মুলতবি করেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ১৯ বছরের ওই তরুণী অভিযোগ করেছিলেন, গত জুলাইয়ে আইয়া নাপা নামের হলিডে রিসোর্টে ১২ জন ইসরায়েলি তরুণ তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে অভিযোগ তুলে নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাস কারাগারে থাকার পর আগস্টের শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে তিনি সাইপ্রাস ত্যাগ করতে পারেননি।

ওই তরুণীর অভিযোগ, সাইপ্রাসের পুলিশ জোর করে তাঁর কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে। তবে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

গত অক্টোবরে এই মামলার বিচার শুরু হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই তরুণীর এক বছরের কারাদণ্ড ও দেড় হাজার পাউন্ড জরিমানা হতে পারে। তবে তাঁর আইনজীবী মাইকেল পোলাক বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, এ দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। তিনি বলেন, আদালত বিচারের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারযোগ্য এক বিবৃতির ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁর মক্কেলের বিবৃতি নেওয়ার সময় সেখানে কোনো আইনজীবী ছিলেন না, যা ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, অভিযোগ করার ১০ দিন পর ওই তরুণী স্বেচ্ছায় অভিযোগ তুলে নিয়ে বিবৃতি দেন এবং বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

ওই তরুণী আদালতকে বলেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে এই বিবৃতি আদায় করা হয়েছিল এবং তাঁকে আইনজীবী নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিচারক মিচালিস পাপাথানাসিউ বলেছেন, এই তরুণী সত্য বলেননি এবং আদালতকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইসরায়েলি ওই গ্রুপের কয়েকজন মোবাইলে তাঁর সঙ্গে যৌনমিলনের ভিডিও ধারণ করায় তিনি লজ্জিত বোধ করেন এবং মিথ্যা বিবৃতি দেন।

ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর ইসরায়েলি ১২ তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁরা ইসরায়েলে ফিরে যান।

ওই তরুণীর আরেকজন আইনজীবী নিকোলেতা চারালামবিদো আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাইপ্রাসের সুপ্রিম কোর্টে যাবেন তাঁরা। সেখানেও ব্যর্থ হলে বিষয়টি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে তোলা হবে।

ওই তরুণী তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাইপ্রাসে বড়দিন উদ্‌যাপন করছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁর মা বিবিসির এক অনুষ্ঠানে বলেন, কয়েক মাস ধরে তাঁরা এক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় সাইপ্রাসে ছিলেন। গ্রীষ্মের পরই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরুর কথা ছিল। ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। দিন দিন তাঁর অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

আরও দেখুন

রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগ ছাড়া উপায় ছিল না-প্রিন্স হ্যারি

বাংলা সংলাপ ডেস্ক: ব্রিটেনের রাজসিংহাসনের দাবিদারদের একজন প্রিন্স হ্যারি জানিয়েছেন, তিনি ‘বিশ্বাসের ওপর ভর’ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *