সোমবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সর্বশেষ সংবাদ
Home » প্রবাস জীবন » সিলেটে আদম ব্যবসা: নজরদারিতে অর্ধশতাধিক এজেন্সি

সিলেটে আদম ব্যবসা: নজরদারিতে অর্ধশতাধিক এজেন্সি

বাংলা সংলাপ ডেস্কঃসিলেট থেকে অবৈধ পথে আদম ব্যবসা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। সবাই যেতে চায় বিদেশ। কেউ মধ্যপ্রাচ্য আবার কেউবা ইউরোপে। অনেকেই আবার আমেরিকায়ও। কিন্তু যাবেন কীভাবে- এসব জানাতে সিলেটে দালালদের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। ট্রাভেলস কিংবা ওভারসিজের নামে ব্যবসা খুলে তারা ধান্ধায় ব্যস্ত রয়েছে। আর এসব আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে সব হারাচ্ছে মানুষ। দিচ্ছে প্রাণও। খুব বেশি আগে নয়। স্টুডেন্ট ভিসায় লোক পাঠানোর নাম করে সিলেটে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রায় এক দশক আগে তাদের হাত ধরেই সিলেট থেকে কয়েক হাজার যুবক ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে। এখন স্টুডেন্ট ভিসায় তেমন সাড়া নেই। সাড়া আছে মাল্টা কিংবা পোল্যান্ডের ব্যবসা। স্টাডি কিংবা জব ভিসা নিয়ে এখন ইউরোপের এই দুই দেশে সহজে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে দালালরা ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট করে লোক পাঠাচ্ছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মহিলা শ্রমিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ, সাগরপথে ইতালি দিয়ে লোক পাঠানোর ব্যবসা গোটা বছরই চলে।

এবার সাগরপথে ইতালি পাড়ি জমাতে গিয়ে সিলেটের ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগরের ওই ট্র্যাজেডির পর সিলেটের অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। দুইদিনের অভিযানের পর এখন ট্রাভেলস কিংবা এজেন্সি বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মালিকরা। তাদের অনেকেরই মোবাইল ফোন বন্ধ। এসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস এজেন্টস অব বাংলাদেশ- আটাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- আটাব সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত বছরের ১লা এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে ৭৬ টি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছিলো। আটাব বলেছিলো- ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমতি নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এরপরও সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ওই পত্রে আটাব জানায়- সিলেট অঞ্চলে সরকারের বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত বৈধ ট্রাভেলস এজেন্সির সংখ্যা ১৮০টি।

এর বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট থেকে মানবপাচার করা হয়ে থাকে। দিন দিন মানবপাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের বৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীরা লজ্জার মুখে পড়েছেন। আটাব সিলেটজোনের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ব্যবসা করতে হলে বিভিন্ন ধাপে বৈধতা নিতে হয়। অনেকেই রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। এর বাইরে তাদের কোনো অনুমতি নেই। তিনি বলেন- এবার আশার কথা হলো, ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির পর সিলেটের প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদিকে, আজ-কালের মধ্যে সিলেট সফরে আসছেন সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। আটাব নেতৃবৃন্দও তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানান জলিল। সিলেট প্রশাসন থেকে আটাবের তালিকার সূত্রধরে নজরদারি শুরু হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানা দুইদিন অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্তত ২০ জনকে দেয়া হয়েছে কারাদণ্ড। সিলেট নগরীর আল-ফালাহ্‌ টাওয়ারের নিচ তলার মো. শাহজাহানের মালিকানাধীন গোল্ডেন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আল-মারজান শপিং সিটির আজিম উদ্দিনের মালিকানাধীন হক ওভারসিজ, জিন্দাবাজারের ইদ্রিস মার্কেটের মো. মামুনের মালিকানাধীন এমএম ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, সুলতান আহমদ খানের মালিকানাধীন হামিদ এন্টারপ্রাইজ, বাবুল আহমদের মালিকানাধীন আকাশ ভ্রমণ ইন্টারন্যাশনাল, নাদিম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস, জিন্দাবাজারের এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের মাসুদ আহমদের মালিকানাধীন মা ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়া মার্কেটের বি.কে এয়ার সার্ভিস, সুরমা মার্কেটের সুমন আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল, এমএ রাজ্জাকের মালিকানাধীন মেসার্স আলম ওভারসিজ, আবদুুল জলিলের মালিকানাধীন মেসার্স এয়ার বাংলা ট্রাভেল্‌স, সুরমা টাওয়ারের পাটওয়ারী এডুকেয়ার অ্যান্ড সার্ভিস, রংমহল টাওয়ারের হাজী মতসিন আলীর মালিকানাধীন নেছারিয়া ট্রাভেল, রংমহল টাওয়ারের রাজন কুমার শর্মার মালিকানাধীন জেবিএস ইন্টারন্যাশনাল এন্ড ট্যুরস, মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন শাহ্‌পরাণ এভিয়েশন, এম মাহাদি হাসানের মালিকানাধীন মদিনাহ ওভারসিজ ইন্টারন্যশনাল, গুলজার আহমদ সিরাজীর মালিকানাধীন বলাকা ট্রাভেলস, সুমাইয়া এন্ড ট্রাভেলস, এম. হোসেনের মালিকানাধীন মঞ্জিল ট্রাভেলস, আল-মদিনা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল, আম্বরখানার বরকতিয়া সুপার মার্কেটের মো. শাহবাজ মিয়া তালুকদারের মালিকানাধীন আল এবলোম ইন্টারন্যাশনাল, নেটপয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল, শাহ্‌জালাল ইন্টারন্যাশনাল, রিমি এন্টারপ্রাইজ, ইকরাহ্‌ ট্রাভেলস এন্টারপ্রাইজ, হক এন্টারপ্রাইজ, বিস্‌মিল্লাহ্‌ ট্রাভেলস, অগ্রগামী ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, লিয়াকত এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইন্টার নেট গ্যালারি ট্রাভেলস, আম্বরখানার গোল্ডেন টাওয়ারের গোলাম রব্বানীর মালিকানাধীন ইফফাজ এয়ারলিংক, তাহিয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, জিন্দাবাজারের কাকলী শপিং সেন্টারে গৌঁছ উদ্দিন ফয়েজের মালিকানাধীন ইয়াহিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ট্যুরস, লায়ন হুমায়ূন কবিরের মালিকানাধীন বাংলা ওভারসিজের ক্যারিয়ার্স, আনন্দ টাওয়ারের নিচতলার মাজেদ ফাহাদের মালিকানাধীন সিটি এডুকেশন এলএলপি, আম্বরখানার সেঞ্চুরি সুপার মার্কেটের উত্তরা ট্রাভেলস, আফজালাবাদ ট্রাভেল, তালতলাস্থ রহমানিয়া সুপার মার্কেটের লন্ডন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, মহাজনপট্টির নাজির চেম্বারের কিবরিয়া ট্রাভেলস, পশ্চিম তালতলার উলামা ট্রাভেলস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল, ওয়েস্টওয়ার্ল্ড শপিং সিটির মতিন ট্রাভেল, ঠিকানা ট্রাভেল, এশিয়ান এডুকেশন, কাকলী শপিং সেন্টারের লাইফ ট্রাভেলস, আম্বরখানার লেইছ সুপার মার্কেটের ছাতক এয়ার ইন্টারন্যশনাল, আম্বরখানার মান্নান সুপার মার্কেটের আল-রাজি এয়ার সার্ভিস, বন্দর াজারের ওরিয়েন্টাল শপিং সেন্টারের নিশাত ট্রাভেলস, আম্বরখানার গোল্ডেং টাওয়ারের মেসার্স এয়ার সার্ভিস, জিন্দাবাজারের ইদ্রিস মার্কেটের রনি মিডিয়া সার্ভিস, অনুপমা ইন্টারন্যাশনাল, মৌ ইন্টারন্যশনাল, রাজম্যানশনের ইমন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, মিতালী ম্যানশনের নিউ দিগন্ত ওভারসিজ, আল মারজান শপিং সিটির আল-কিবলা ট্রাভেলস, ইদ্রিস মার্কেটের মেসার্স উজ্জ্বল এয়ার সার্ভিস, জিন্দাবাজারের ওভারসিজ সেন্টারের সিদ্দিকিয়া হজ্ব ট্রাভেল, আম্বরখানার হুরায়রা ম্যানশনের সিলেট এয়ার সার্ভিস, সুরমা মার্কেটের জনতা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মিতালী ম্যানশনের তাসমানিয়া ট্রাভেলস, রাজা ম্যানশন আল-ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল, ইদ্রিস মার্কেট সানি ইমিগ্রেশন সার্ভিস, উপশহরের গার্ডেন টাওয়ারের আবিদ ওভারসিজ, কানিজ প্লাজার তাজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইদ্রিস মার্কেটের মর্তুজা এয়ার সার্ভিস, মিতালী ম্যানশনের মোহনা এয়ার সার্ভিস, রোজভিউ কমপ্লেক্সের আমানাহ্‌ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সুবহানী ঘাটের হাজী নবাব আলী মার্কেটের সেতুবন্ধন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরস, মহাজনপট্টি সিলেটের ফাতেমা কমপ্লেক্সের গ্রামীণ ওভারসিজ, রোজভিউ কমপ্লেক্স খাজা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, জিন্দাবাজারের ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের কামাল আহমদের মালিকানাধীন ট্রাভেলস ওয়ার্ল্ড, মোতালিব ভিলার এডুকেশন প্লাস, ফেঞ্চুগঞ্জের শাহ মালুম ট্রাভেলস, কদমতলীর আল বারাকাত ম্যানশনের ইব্রাহিম ট্রাভেলস, ধোপাদিঘীর পাড় সিলেটের হাবিব ভবনের আল হারামাইন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ও মহাজনপট্টির নাজির চেম্বারের মো. হাবিবুল্লাহ্‌র মালিকানাধীন আল হাবিব ট্রাভেলস।

আরও দেখুন

ভিন্দালু ভিসা ঘোষণা ,কর্ম পরিকল্পনা ব্রেক্সিটের পর

কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সতর্ক প্রতিক্রিয়া! সাজু আহমদঃ ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল ব্রেক্সিট পরবর্তী নতুন পয়েন্ট বেইজড …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *